বেনাপোল স্থলবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী ও সমন্বিত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর ২০২৫) সকাল ১১টায় আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবনের সম্মেলন কক্ষে উপসচিব পরিচালক (ট্রাফিক) মোঃ শামীম হোসেনের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় তিনি জানান, স্থলবন্দর এলাকায় সিসিটিভির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হলেও প্রশাসনের সকল ইউনিট একসঙ্গে কাজ করলে বন্দর নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে।
তিনি বলেন,
“চোরাকারবারি দমন ও চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধে প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে ম্যাজিস্ট্রেটের অফিস চালু করা হয়েছে। হাতেনাতে ধরা অপরাধীদের দ্রুত বিচার করে জেলহাজতে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নিরাপত্তা দুর্বলতায় বৃদ্ধি পাচ্ছে চুরি—অভিযোগ বক্তাদের।
সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, বন্দরের নিরাপত্তা কর্মীরা যথাযথ দায়িত্ব পালন না করায় চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বাড়ছে। তারা বলেন,
“সিকিউরিটি গার্ডরা দায়িত্বশীল হলে অধিকাংশ অপরাধই কমে যাবে।”
এ ছাড়া বন্দরে লেবার-শ্রমিকদের জন্য মৌলিক সুবিধা—টয়লেট ও নামাজের স্থান—না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বক্তারা। তাদের দাবি, শ্রমিকবান্ধব পরিবেশ ছাড়া বন্দর পরিচালনা নির্বিঘ্ন হবে না।
দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল—প্রথম শ্রেণীর কেপিআই এলাকা:
সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালের স্থলবন্দর ব্যবস্থাপনা প্রবিধান অনুযায়ী বেনাপোল স্থলবন্দর সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষিত। এছাড়া কেপিআই নিরাপত্তা নীতিমালা ২০১৩ অনুযায়ী বন্দরটিকে প্রথম শ্রেণীর (১’খ) জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
ফলে বন্দর এলাকায় ব্যক্তি ও যানবাহন চলাচলে নিয়ন্ত্রণসহ রক্ষিত পণ্য ও তথ্য সুরক্ষায় বিশেষ বিধিনিষেধ রয়েছে।
বন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা কার্যক্রম তদারকি ও মনিটরিংয়ের জন্য ৯ সদস্যের একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে উপ-পরিচালক (প্রশাসন) আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
কমিটির দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে—এপিবিএন, আনসার ও বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মীদের কার্যক্রম মনিটরিং:
বায়োমেট্রিক হাজিরা ও উপস্থিতি পর্যালোচনা
গেট, শেড, ইয়ার্ড ও টার্মিনালে চাঁদাবাজি-বকশিশ বন্ধে সুপারিশ
অগ্নিকাণ্ড ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় জরুরি উদ্যোগ গ্রহণ
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন,উপপরিচালক (প্রশাসন) রাশেদুল সজিব নাজির, উপপরিচালক (ট্রাফিক) মোঃ রুহল আমিন, সহকারী পরিচালক কাজী রতন,বেনাপোল কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মোঃ রাহাত হোসেন,বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি মালিক সমিতির সভাপতি এ কে এম আতিকুজ্জামান সনি,৯২৫ এর সাধারণ সম্পাদক শহীদ আলী,সি অ্যান্ড এফ কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান,ইমিগ্রেশন ইনচার্জ সাখাওয়াত হোসেন,বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি আশরাফ হোসেন,এনএসআই কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন,আইসিপি ক্যাম্পের সুবেদার মিজানুর রহমান,ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম,
হ্যান্ডেলিং শ্রমিক ইউনিয়ন ৯২৫ ও ৮৯১-এর নেতৃবৃন্দসহ বিজিবি, এনএসআই, কাস্টমস, পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার প্রতিনিধিরা।