আগামীর নির্বাচন ও তরুণদের রাজনীতি: প্রত্যাশা, প্রশ্ন ও দায়িত্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক | খবরপত্র
আগামীর নির্বাচন ও তরুণদের রাজনীতি: প্রত্যাশা, প্রশ্ন ও দায়িত্ব, খবরপত্র ছবি:
আগামীর নির্বাচন ও তরুণদের রাজনীতি: প্রত্যাশা, প্রশ্ন ও দায়িত্ব, খবরপত্র ছবি:

আব্দুল্লাহ আল সাজিদ হাসানাত সাদ

শিক্ষার্থী, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (IUB)

কলামিস্ট

বাংলাদেশের রাজনীতিতে তরুণরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তাদের ভূমিকা এখনও সীমিত। আগামীর জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তাই তরুণ সমাজের কাছে কেবল একটি নির্বাচন নয়; এটি তাদের ভবিষ্যৎ, অধিকার এবং রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

বর্তমান সময়ে নির্বাচন নিয়ে আস্থা ও অনাস্থার দ্বন্দ্ব স্পষ্ট। অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্ন অবস্থান তরুণদের মনে একাধিক প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। ভোট কি সত্যিই পরিবর্তনের হাতিয়ার, নাকি এটি কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ—এই প্রশ্ন আজ তরুণদের রাজনৈতিক চেতনাকে নাড়া দিচ্ছে।

তরুণদের রাজনীতি দেখার দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবতা-নির্ভর। কর্মসংস্থানের সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, শিক্ষার মান, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা—এসব বিষয় তাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তারা এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রত্যাশা করে, যেখানে নির্বাচন কেবল সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নয়, বরং জবাবদিহি ও নীতিগত পরিবর্তনের সূচনাবিন্দু।

তবে হতাশার দিকটিও উপেক্ষা করা যায় না। রাজনৈতিক সহিংসতা, প্রতিহিংসার রাজনীতি ও বিভাজনমূলক বক্তব্য তরুণদের রাজনীতি বিমুখ করে তুলছে। যখন নির্বাচন ঘিরে ভয়, অনিশ্চয়তা ও অবিশ্বাস তৈরি হয়, তখন তরুণদের অংশগ্রহণ সীমিত হয়ে পড়ে। গণতন্ত্র তখন কার্যকর অংশগ্রহণের বদলে কেবল কাঠামোগত ব্যবস্থায় আবদ্ধ থাকে।

সম্পাদকীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, আগামীর নির্বাচনের সফলতা অনেকাংশেই নির্ভর করবে তরুণদের আস্থা অর্জনের ওপর। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত তরুণদের শুধু ভোটার হিসেবে নয়, বরং নীতিনির্ধারণের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা। একই সঙ্গে তরুণদেরও দায়িত্ব রয়েছে—সচেতন থাকা, গুজব ও বিভ্রান্তি পরিহার করা এবং শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করা।

সবশেষে বলা যায়, আগামীর নির্বাচন একটি প্রজন্মগত পরীক্ষার নাম। এই নির্বাচনই নির্ধারণ করবে তরুণরা গণতন্ত্রকে পরিবর্তনের কার্যকর মাধ্যম হিসেবে দেখবে কিনা। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনই পারে তরুণদের সেই বিশ্বাস পুনর্গঠন করতে—যে রাজনীতি এখনও তাদের ভবিষ্যৎ গড়ার শক্তিশালী পথ।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত