যশোর-১ (শার্শা–বেনাপোল) আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী মফিকুল হাসান তৃপ্তির মনোনয়ন পুনঃবহালের দাবিতে শার্শা বল ফিল্ডে হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢল নেমেছে।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে শার্শা উপজেলা ও বেনাপোল পৌর বিএনপি এবং দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে নারী-পুরুষ, বৃদ্ধসহ সর্বস্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা হিসেবে মফিকুল হাসান তৃপ্তি এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। হঠাৎ করে তাঁর মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তে নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। বক্তারা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে তাঁর মনোনয়ন পুনঃবহালের দাবি জানান।
সমাবেশে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ সময় প্রিয় নেতাকে কাছে পেয়ে অনেক নেতাকর্মী ও সমর্থক কান্নায় ভেঙে পড়েন। বিশেষ করে নারী ও বয়োবৃদ্ধ সমর্থকদের চোখে অশ্রু ঝরতে দেখা যায়। আবেগাপ্লুত হয়ে অনেকেই মফিকুল হাসান তৃপ্তিকে জড়িয়ে ধরেন। এ সময় তিনিও আবেগ সংবরণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
পরে নেতাকর্মীদের অনুরোধে মফিকুল হাসান তৃপ্তি মনোনয়নপত্র জমা দেন এবং সকলকে নির্বাচন আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দলের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই নেতাকর্মীদের পাশে আছেন এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নিকট ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করেন।
উল্লেখ্য, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-১ আসনে গত ৩ নভেম্বর বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন পান মফিকুল হাসান তৃপ্তি। মনোনয়ন পাওয়ার পর প্রায় দেড় মাস ধরে তিনি শার্শা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও এলাকায় ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগ ও পথসভা করেন। এসব কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক সাধারণ ভোটারের অংশগ্রহণ ছিল লক্ষণীয়। কেন্দ্রীয় বিএনপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ও মিডিয়া সেলেও তার প্রচারণার খবর নিয়মিত প্রকাশিত হয়।
তবে ২৪ ডিসেম্বর হঠাৎ করে নাটকীয় পরিবর্তনের মাধ্যমে যশোর-১ আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয় শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটনকে। এ আসনে মোট চারজন মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।
এ বিষয়ে বেনাপোল পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের ভারত বলেন, “শার্শা ও বেনাপোলের মানুষের সঙ্গে মফিকুল হাসান তৃপ্তির গভীর আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর মনোনয়ন বাতিলের বিষয়টি কেউ কল্পনাও করেনি। তাই সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে তাঁর মনোনয়ন পুনঃবহালের দাবি জানিয়েছে।”
শার্শা উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব ইমদাদুল হক ইমদাদ বলেন, “এই আসনে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী মফিকুল হাসান তৃপ্তি। তাঁকে বাদ দেওয়ায় নেতাকর্মীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। আমরা আশা করি, দলের হাইকমান্ড বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবেন।”
সমাবেশ শেষে কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সমাপ্ত হয়।