জাফলংসহ পর্যটন নগরীতে সম্প্রতি একাধিক ঘটনার কারণে জনজীবনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু ব্যক্তি মাদক সেবন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। তারা বিভিন্ন সময়ে পর্যটকদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করছে, হুমকি-ধর্ষণ চালাচ্ছে এবং সম্পত্তিতে ক্ষতি করার মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মাদকাসক্ত এই লাইনম্যানরা প্রতিদিন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নাম ব্যবহার করে চোরাকারবারিদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা গ্রহণ করছে। এছাড়া তারা বিভিন্ন ধরনের মাদক চোরাচালান করে দেশে নিয়ে আসে এবং নিজেও মাদক সেবন করে পর্যটন নগরীতে মারামারি করছে। পর্যটকরা অভিযোগ করেছেন, তারা চাঁদা না দিলে মারধর, গালাগালি এবং হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
কিছু দিন আগে, ছাত্রদলের নেতা সোহেল ও আরিফুল হক চৌধুরীর ধানের শীষ প্রতীকের প্রচারণা শেষে বিয়াইর হোটেলে খেতে বসে থাকাকালীন মাদকাসক্ত কিশোর গ্যাং তাদের কাছে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দেওয়ায় হামলা চালানো হয় এবং ৪০ লাখ টাকার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই লাইনম্যানরা নিজেদের “বিডিআরের লাইনম্যান” ও “কাসেম গ্রুপ” হিসেবে পরিচয় দেয়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে ডালিম, শাহিন, সেলিম, জাহিদ, রিফাত ও হাসেম রয়েছেন। এই ধরনের কর্মকাণ্ডে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মানও ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
স্থানীয়রা আশা করছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা তাদের শিগগিরই সনাক্ত করে গ্রেফতার করবে, যাতে এলাকা বাসি এবং পর্যটকরা নিরাপদে জীবনযাপন করতে পারে।
আরও একটি সূত্রে জানা গেছে, এই দুই ব্যক্তি আড়ালে মানবপাচার এবং মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত। কয়েক দিন পর তারা মানুষ নিয়ে ঢাকায় চলে যায় এবং এরপর ভারতে পাঠায়। তাদের আবাসস্থান জাফলংয়ের গুচ্ছ গ্রামে। স্থানীয়দের ধারণা, যদি তাদের দ্রুত ধরতে না হয়, তবে আরও গোপন তথ্য প্রকাশ পেতে পারে।