বেনাপোল স্থলবন্দরের কাস্টমস, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীদের জড়িয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মিথ্যা ও মনগড়া সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে বহিরাগত চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য বন্ধ ও অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল ১১টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বেনাপোল বাজার এলাকার বাণিজ্যিক ভবন “রহমান চেম্বার”–এর ষষ্ঠ তলায় অবস্থিত হোটেল সানরুফে বেনাপোল ল্যান্ড পোর্ট ইমপোর্টার অ্যান্ড এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো. জিয়াউর রহমান জিয়া।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সম্প্রতি একটি স্বার্থান্বেষী মহল বেনাপোল স্থলবন্দরের কাস্টমস, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ী সমাজকে জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর, অসত্য ও মনগড়া সংবাদ বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করছে। এসব সংবাদ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সুনাম ক্ষুণ্ন করছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে বর্তমানে বহিরাগত চাঁদাবাজদের অত্যাচারে ব্যবসায়ী ও বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে বেনাপোল পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বেনাপোল গ্রামের বাসিন্দা সুমন হোসেন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পাসপোর্ট দালালি, লাগেজ পার এবং চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, সুমন হোসেন দীর্ঘদিন ধরে কোনো বৈধ অনুমতি ছাড়াই বন্দরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে যাত্রীদের দ্রুত ভারতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে জনপ্রতি ২ থেকে ৩ হাজার টাকা আদায় করতেন। শুধু সাধারণ যাত্রী নয়, বন্দরের শেড ইনচার্জসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নিয়মিত চাঁদা আদায় করতেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি বিভিন্ন নামসর্বস্ব অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা ও মানহানিকর সংবাদ প্রচারের হুমকি দিতেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, তৎকালীন আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় সুমন হোসেন বন্দর চেয়ারম্যানকে গেস্টহাউসে অবরুদ্ধ করে রাখার মতো দৃষ্টান্তমূলক ধৃষ্টতা দেখান, যার পরিপ্রেক্ষিতে বন্দরে তার প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।
এ ঘটনায় বেনাপোল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) শাহিদা শারমিন ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর বেনাপোল পোর্ট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে ১০ সেপ্টেম্বর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।
তবে চার্জশিট দাখিলের দীর্ঘ সময় পার হলেও অভিযুক্ত সুমন হোসেনকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ব্যবসায়ীরা। অভিযোগ করা হয়, তিনি বর্তমানে আত্মগোপনে থেকে বিভিন্ন পত্রিকার নাম ব্যবহার করে ফোন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, সুমন হোসেনের এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে অনেক ব্যবসায়ী বেনাপোল বন্দর ছেড়ে ভোমরা বা অন্যান্য বন্দরে ব্যবসা স্থানান্তর করছেন, যার ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এ সময় বেনাপোলের আমদানি-রপ্তানিকারক রয়েল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী রয়েল হোসেন অভিযোগ করেন, চাঁদা না দেওয়ায় সুন্দর সাহা নামের এক সাংবাদিক দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। এর ফলে তার ব্যবসায়িক সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের কাছে সুমন হোসেনসহ সকল চাঁদাবাজকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে বন্দরের সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষা ও সরকারের রাজস্ব প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে আইনের কঠোর প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা কামনা করেন বক্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সিনিয়র সহ-সভাপতি উজ্জ্বল বিশ্বাস, ব্যবসায়ী শামীম হোসেন, রহমত উল্লাহসহ বেনাপোল ল্যান্ড পোর্ট ইমপোর্টার অ্যান্ড এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা।